Posts

নিঃশব্দ আকুলতা

নিঃশব্দ আকুলতা                        -- মহেশ  প্রতিদিন তোমাকে দেখি, দূরত্বের এই নীরব সীমারেখা পেরোতে পারি না, চোখ ভরে দেখি, হৃদয় ভরে চাই— কিন্তু কাছে আসার সাহস খুঁজে পাই না। আর কতদিন শুধু দূর থেকে তোমাকেই ভালোবাসব? এক ঝলক দেখাতেই তুমি হয়ে উঠেছিলে আমার সমস্ত অপেক্ষার নাম, তুমি জানো না, তোমার অজান্তেই আমি কত রাত স্বপ্নে তোমার পাশে হেঁটেছি নির্ভার। আর কতদিন শুধু দূর থেকে তোমাকেই ভালোবাসব? শব্দগুলো আজও বুকের ভেতর বন্দী, বলতে চেয়েও বলা হয় না— “আমি তোমাকে চাই”, এই না–বলা কথাগুলোই প্রতিদিন আমাকে আরও তোমার করে তোলে। আর কতদিন শুধু দূর থেকে তোমাকেই ভালোবাসব? একদিন কি এই দূরত্ব ভেঙে যাবে? একদিন কি তুমি বুঝবে— এই নীরব মানুষটাও তোমাকে অসম্ভব গভীরভাবে ভালোবেসেছে? নাকি সারাজীবনই এই প্রশ্নটাই আমাকে ঘিরে থাকবে— আর কতদিন শুধু দূর থেকে তোমাকেই ভালোবাসব?

নেতাজি

           নেতাজি                             - মহেশ  তিনি কেবল একজন মানুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন সিদ্ধান্তের আগুন— যে আগুন প্রশ্ন করে না, শিকল দেখলেই জ্বলে ওঠে। যখন ইতিহাস ভয় পেতে শিখছিল, তিনি ভয়কে দাঁড় করালেন কাঠগড়ায়। নিঃশব্দ পায়ে হেঁটে এলেন, আর পৃথিবী বুঝে গেল— ঝড় সবসময় শব্দ করে আসে না। নেতাজি কোনো স্লোগানের জন্ম দেননি, তিনি জন্ম দিয়েছিলেন মেরুদণ্ড। বলেছিলেন— স্বাধীনতা চাওয়া নয়, স্বাধীনতা নেওয়া। মানচিত্রে তখন এক দেশ নেই, তবু তার বুকের ভেতর একটা জাতি নিশ্বাস নিচ্ছিল। রাজধানী ছিল মানুষের বিশ্বাস, আর সীমান্ত ছিল সাহস। তার সাহস বন্দুকের নল থেকে নয়, এসেছিল চোখের দৃঢ়তা থেকে। তিনি জানতেন— যে মাথা নত করে বাঁচে, তার বেঁচে থাকা ইতিহাস হয় না। তিনি এমন পথে হেঁটেছিলেন যেখানে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি নেই, তবু পিছনে তাকাননি— কারণ তার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল অনাগত প্রজন্মের সকাল। আজও তিনি নেই— এই কথাটাই সবচেয়ে বড় মিথ্যে। প্রতিবার অন্যায়ের সামনে যখন কেউ একা দাঁড়ায়, নেতাজি তখন জন্ম ...

মিথ্যে স্বপ্ন

মিথ্যে স্বপ্ন - মহেশ  কতটা কষ্ট লুকিয়ে রাখি, হাসির ভেতর ছায়া ঢাকি। ভালোবাসা নামে এক গল্প শুনি, শেষে শুধু মিথ্যে থাকে বাকি। চেয়েছিলাম একমুঠো আশা, হাতে ধরতে পারিনি কভু, যত কাছে গিয়েছি তত দূর তুমি, শুধু ফাঁকা কথার ঋণ রইলো রভু। দুঃখই সঙ্গী, কষ্টই গান, ভালোবাসা এক মিথ্যে স্বপ্নের নাম। চাইনি কিছু, তবুও হারালাম, আশার আলোও শেষ অবধি ভাঙা। রাত জাগা চোখে ভোরের খোঁজ, আকাশও ক্লান্ত, দেয় না কোনো সাড়া। প্রেমের কথাগুলো কেবলই ধোঁকা, সবই যে মিথ্যে, সবই যে হারা। দুঃখই সঙ্গী, কষ্টই গান, ভালোবাসা এক মিথ্যে স্বপ্নের নাম। চাইনি কিছু, তবুও হারালাম, আশার আলোও শেষ অবধি ভাঙা। শেষে বলি, তবুও বাঁচি, আশার ধুলো বুকে মেখে। একদিন হয়তো আসবে সেই আলো, যা ভাঙা স্বপ্ন জোড়া লাগাবে।

তোমার পথেই চলবে জীবন

তোমার পথেই চলবে জীবন     - মহেশ  আমি জানতাম না, এতো দূরে যাবে, স্বপ্নগুলো সব, ছায়ায় মিলাবে। ভেবেছিলাম বুঝি, একটু ভালোবাসা, শেষ হলো সবই, নেই আর আশা। তুমি সোজাসুজি, বলেই দিলে আজ, আমি তোমার কেউ নই, নেই কোনো সাজ। তোমার পথ তুমি, আপন মনে চলো, আমি সরে যাবো, হারিয়ে যাবো জল। বিয়ের স্বপ্নটা, স্বপ্নই রবে, তোমার জীবনে, আমি আর কবে? ভালো থেকো তুমি, এই আশীর্বাদ, আমি গান গেয়ে, কাটাবো রাত।

তোমার ছায়ায় জীবন

তোমার ছায়ায় জীবন ---- মহেশ  তার ছোঁয়ায় জেগে ওঠে হৃদয়ের আলো, আমি চাই—জীবনভর ছুঁয়ে থাকো আমায়, তোমার নিঃশ্বাসে গন্ধ পাই এক চিরন্তন শান্তি, এই জীবনভরে আমি হারাতে চাই না তোমায়। নিঃশব্দে ডাকছি—শুধু তুমি শোনো কি? ভালোবাসতে চাই, আরো গভীর, আরো নিবিড়— ভালোবাসতে চাই শুধু তোমাকে। দূর থেকে যতই থাকো, আমার চোখে তুমি কাছে, প্রতিটি মুহূর্তে—তোমার পাশে থাকার স্বপ্নে, আমি গড়ে চলেছি এক অদৃশ্য সংসার। কোনো অন্য রং নেই আমার প্রেমে, শুধু তোমারই নামে রাঙানো, তোমারই স্পর্শে বাঁচে আমার ভোর, এই ভালোবাসা সারা জীবন ধরে থাকুক— শুধু আমাদের।

শুধু ভালোবাসা (একলা রাজা)

শুধু ভালোবাসা (একলা রাজা) ---- মহেশ (১) অনুভূতির ছায়ায় এক ছবি আঁকা, দিন যায়, রাত জাগে—তবু মন ফাঁকা। তোমার পাশে গল্পে হারিয়ে, ভালোবাসার নামেই আমি আর বেঁচে আছি। (২) এক দিনে তো প্রেম নয় হয়, জানি, বছরের পর বছর লাগে সেই টান গাঁথতে, তুমি ছিলে গল্পে, হেসে ওঠা ছায়ায়, আর আমি, পাগল, স্বপ্নে তোমায় রাখতাম চিরদিন। (কোরাস) তুমি যদি বন্ধু হও, আমি হব পাশে, নিঃশব্দ ভালোবাসা, শব্দে না আসে। তোমার বিয়ে হোক, আমি একলা রাজা, কারো কিছু বলার নেই—এই যে আমার বাজা। (৩) আজ কত কথা জমে ছিল বুকে, বলতে চেয়েও বলিনি, অভিমানে চুপে। ভবিষ্যতে বলবো না আর— তোমাকে ভালোবাসি… কথা দিলাম স্নেহে ভার। (৪) চোখে জল নেই, তবুও মন ভিজে, তোমার হাসিতে আজও কেউ মরে যায় নিঃশব্দে। আপস নেই, দাবি নেই— শুধু ভালোবাসা, আর ভালোবাসা, এই আমার হৃদয়ছায়া। (শেষ কোরাস) তুমি থাকো আলোয়, আমি ছায়ায় হাসি, চিরকাল বন্ধু, তবু প্রেমে পুড়ে বাসি। তোমার যদি সুখ হয় দূরেও গিয়ে, তবে দূরেই থাকো… ভালোবাসি, বলবো না আর কিছু নিয়ে।

নবজাগরণের সঙ্কেত

নবজাগরণের সঙ্কেত রাজ্য ছারখার, পেছনে ধোঁয়া, সামনে ধূসর আশার রেখা, কিছু লোক হাঁটে, চোখে আগুন, নতুন ঘর গড়ার দেখা। নতুন কিছু স্বপ্ন নিয়ে, মুখে হাসি, ভিতরে রাজনীতির খেলা, তারা বুনছে স্বপ্ন, কিনছে আশা মানুষের মন ফাঁদে ফেলা। জনগণ বোকা নয়, কেবল ঘুমিয়ে থাকা আগুন, যবে জেগে উঠবে, দেবে সে পৃথিবী কাঁপানো দাগুন। তাদের বিশ্বাস করেছে ঠকিয়ে, যারা দেবতা সেজে, তাদেরই মুখোশ খুলবে আজ, সত্যের আলো যে জ্বলে বেজে। নারী আজ শিকার, শহরে গ্রামে চিৎকার, হিংস্র কিছু দানবেরা ঘুরে, মানুষরূপী নরকচার। ওরা মানুষ নয়, না পশু, নর্দমার বিষাক্ত ধোঁয়া, কিন্তু আর নয়—এবার আসছে রক্তে লেখা নবজোয়া। "অগ্নিযাত্রা" শুরু আজ, "প্রতিবাদের" উঠেছে ঢল, "জনবিস্ফোরণ" হবে যেদিন, ভেঙে পড়বে মিথ্যার কোল। "স্বাধীনচেতা", "নবনির্মাণ", "রূপান্তর" হবে হাতিয়ার, নতুন এক বিপ্লব আসবে—গর্জে উঠবে জনতার।