নেতাজি
নেতাজি
- মহেশ
তিনি কেবল একজন মানুষ ছিলেন না,
তিনি ছিলেন সিদ্ধান্তের আগুন—
যে আগুন প্রশ্ন করে না,
শিকল দেখলেই জ্বলে ওঠে।
যখন ইতিহাস ভয় পেতে শিখছিল,
তিনি ভয়কে দাঁড় করালেন কাঠগড়ায়।
নিঃশব্দ পায়ে হেঁটে এলেন,
আর পৃথিবী বুঝে গেল—
ঝড় সবসময় শব্দ করে আসে না।
নেতাজি কোনো স্লোগানের জন্ম দেননি,
তিনি জন্ম দিয়েছিলেন মেরুদণ্ড।
বলেছিলেন—
স্বাধীনতা চাওয়া নয়,
স্বাধীনতা নেওয়া।
মানচিত্রে তখন এক দেশ নেই,
তবু তার বুকের ভেতর
একটা জাতি নিশ্বাস নিচ্ছিল।
রাজধানী ছিল মানুষের বিশ্বাস,
আর সীমান্ত ছিল সাহস।
তার সাহস বন্দুকের নল থেকে নয়,
এসেছিল চোখের দৃঢ়তা থেকে।
তিনি জানতেন—
যে মাথা নত করে বাঁচে,
তার বেঁচে থাকা ইতিহাস হয় না।
তিনি এমন পথে হেঁটেছিলেন
যেখানে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি নেই,
তবু পিছনে তাকাননি—
কারণ তার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল
অনাগত প্রজন্মের সকাল।
আজও তিনি নেই—
এই কথাটাই সবচেয়ে বড় মিথ্যে।
প্রতিবার অন্যায়ের সামনে
যখন কেউ একা দাঁড়ায়,
নেতাজি তখন জন্ম নেন।
তিনি কোনো অতীত নন,
তিনি এক চিরজাগ্রত প্রশ্ন—
“তুমি কি ভয়ের সঙ্গে আপস করবে,
নাকি সত্যের সঙ্গে হাঁটবে?”
নেতাজি মানে—
ভয়কে চোখে চোখ রেখে বলা,
“তুমি আমার শেষ নয়।”